প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 15, 2026 ইং
আনোয়ারায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা, স্বামী আটক”

“মুহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় লিলি আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছে।গতকাল মঙ্গলবার (দুপুর) উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশ লিলির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত লিলি আক্তার ওই এলাকার মৃত লোকমান আলীর পুত্র মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। লিলির বাবার বাড়ি একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ্ বাড়ি এলাকায়।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ্ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই লিলি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হতেন। শাশুড়ি, স্বামী ও ননদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি প্রায়ই বাবার বাড়িতে চলে আসতেন। সর্বশেষ কয়েকদিন আগেও নির্যাতনের কারণে তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার আগের রাতে স্বামী মহিউদ্দিন তাকে মারধর করে এবং ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের বোনকে নিয়ে যাও, না হলে মেরে ফেলব।’ পরদিন সকালে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আত্মহত্যার খবর জানানো হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে লিলিকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে কে নামিয়েছে—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পাননি তারা। তার মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।অন্যদিকে, নিহতের ননদ মর্জিনা সুলতানা বলেন, লিলির সঙ্গে তাদের কোনো বড় ধরনের বিরোধ ছিল না। মাঝে মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। তিনি জানান, লিলি জেদী স্বভাবের ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে চাইতেন না।
শাশুড়ি রেজিয়া সুলতানা জানান, ঘটনার আগের রাতে সামান্য ঝগড়া হয়। পরে লিলি নিজ কক্ষে একা ছিলেন। সকালে ডাকাডাকির পর তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।
স্বামী মো. মহিউদ্দিন বলেন, সংসারে কিছুদিন ধরে অশান্তি চলছিল এবং আলাদা বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। ঘটনার রাতে তিনি সন্তানদের নিয়ে উপরের তলায় ঘুমাতে যান। সকালে এসে স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, “পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় স্বামী মহিউদ্দিনকে(৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪